নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর মাওলানা মুহাম্মদ মামুনুল হক বলেছেন, ‘ইসলাম ক্ষমতায় গেলে হিন্দু, খ্রিষ্টান, বৌদ্ধ সহ সকল সম্প্রদায় তাদের সঠিক অধিকার পাবে। কখনো তাদের কোন কিছু নিয়ে চিন্তা করতে হবেনা বরং তাদের অধিকার যারা হরণ করেছে সেগুলো পাই পাই করে আদায় করে দেওয়া হবে।’
মঙ্গলবার (২৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কটিয়াদী পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে উপজেলা খেলাফত মজলিস আয়োজিত এক সমাবেশে তিনি এ মন্তব্য করেন। জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি ও নির্বাচনকালীন লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত ও খেলাফত প্রতিষ্ঠার দাবীতে এই গণসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের অতীত ইতিহাস হচ্ছে সংখ্যালঘুদের নিয়ে রাজনীতি করার ইতিহাস। একদল মানুষ রয়েছে, হিন্দুদের রাতে ছোবল মারতো আর দিনে ওঝা হয়ে ঝাড়তো। এরাই সংখ্যালঘুদের নিয়ে রাজনীতি করেছে।’
তিনি আরো বলেছেন, ‘আগামীর বাংলাদেশ হতে হবে জুলাই সনদের ভিত্তিতে। কিন্তু একশ্রেণির মানুষ চায় বিগত দিনে যেমনিভাবে একটি দল একটি পক্ষ ক্ষমতাকে কুক্ষিগত করে ফ্যাসিবাদ কয়েম করেছিলো। আবার কেউ কেউ স্বপ্ন দেখছে আগামী ১৫ বছর পালাবদল করে আবার নতুন করে ক্ষমতা আগলে রাখতে চায়।’
গণসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মামুনুল হক বলেন, ‘যারা দেশের অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোকে রাজনৈতিক হিস্যা দিতে চায়না। শুধুমাত্র একদলীয় ব্যাবস্থা বাস্তবায়নের মাধ্যমে তারা দেশে নতুন করে ফ্যাসিবাদ বাস্তবায়নের চেষ্টা করছে। বাংলার মানুষ রক্ত দিয়ে ফ্যাসিবাদ বিদায় করেছে নতুন কোন ফ্যাসিবাদের হাতে তাদের স্বাধীন বাংলাদেশের মাটি ইজারা দেওয়ার জন্য নয়।’
মাওলানা মামুনুল হক আরো বলেন, আগামীর নির্বাচন শুধু প্রতীকের নির্বাচন নয়, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের জন্য গণভোটের নির্বাচন। তাতে হ্যাঁ ভোট দেওয়ার আহবান জানাই। দেশের মানুষের অধিকার বাস্তবায়নের জন্য রাজনৈতিক একাধিক দলসমূহের পক্ষ থেকে ঐকবদ্ধ একক প্রার্থী যাকেই ঘোষণা করা হবে তাকেই সবাই মিলে বিজয় নিশ্চিত করতে হবে।’
কটিয়াদী উপজেলা খেলাফত মজলিসের সভাপতি মাওলানা তাফাজ্জুল হক রাশিদীর সভাপতিত্বে এ সমাবেশে প্রধান বক্তা ছিলেন কিশোরগঞ্জ ২ আসনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সংসদ সদস্য প্রার্থী মাওলানা শফিকুল ইসলাম রুহানী। এছাড়া বিশেষ অতিথি ছিলেন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আতাউল্লাহ আমীন, সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা হেদায়েত উল্লাহ হাদী, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আব্দুল আজিজ, মাওলানা ফজলুর রহমান।
গণসমাবেশে দলীয় নেতাকর্মী ছাড়াও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ সহ একাধিক রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।